|
অগ্নিমিত্রা পাল
সত্যি কথা বলতে কী, অনেক জমকালো রঙকে সঙ্গে নিয়ে আসছে এ বারের পুজো৷ কমলা, হলুদ থেকে শুরু করে লেবু-সবুজ৷ পুজো মাতাবে এরাই৷ এখন উৎসবের সময়৷ লজ্জা না পেয়ে জমকালো পোশাক পরুন৷ আপনিও যে কতটা উজ্জ্বল হতে পারেন, সেটা লোকজন দেখুক৷ প্রিন্ট আর টাই-ড্রাইড ফেব্রিকের উপরে এ বার বেশি ঝোঁক৷ ছাপার মধ্যে প্রজাপতি থেকে শুরু করে বিশাল চেহারার ড্রাগনফ্লাই- অনেক কিছুই এ বার পুজোয় দেখতে পাবেন৷ |
|
‘লাভ আজকল’-এর দীপিকা পাড়ুকোনের কথা মনে পড়ে? ছাপা শিফ্ট পোশাকের সঙ্গে মানানসই উজ্জ্বল রঙের চুড়িদার৷ ফিউশন ট্রেন্ড৷ শিফ্ট পোশাকের আবার নতুন করে ফিরে আসাটা আমার মতে এক রকমের আশীর্বাদই৷ যে কোনও গড়নের লোকের সঙ্গে এটা দারুণ ভাবে মানিয়ে যায়৷ ভারতীয় হলে তো কোনও কথাই নেই৷ আদরের দোপাট্টাটা আপাতত ছুড়ে ফেলুন৷ বিড দেওয়া একটা ট্রেন্ডি ক্লাচ ব্যাগ নিয়ে নিন৷ ওয়েজ হিলের জুতো পরুন৷ পিপ টো ব্যালেরিনাও চলতে পারে৷
ফিউশান লুক আর ভাল লাগছে না? অনেক কষ্ট করে তৈরি করা নিজের ছিপছিপে চেহারাটা এ বার পুজোয় সবাইকে দেখাতে চান? তা হলে সিগারেট প্যান্ট পরুন৷ মেদহীন পা দেখাতে চাইলে এর কোনও জুড়ি নেই৷ সঙ্গে পরে ফেলুন কিমোনো টপ৷
পুজো হল রঙের উৎসব৷ উজ্জ্বলতার উৎসব৷ তবে পোশাকের ক্ষেত্রে খুব বেশি লোক-দেখানো আড়ম্বড়ের দিকে পা না বাড়ানোই ভাল৷ সাধারণ পোশাক পরেও কী ভাবে লোকের নজর কাড়া যায়, সে দিকে মন দেওয়াটাই কাজের কথা৷ লোকের বাহবা পেতে হলে সবার আগে যেটা দেখা দরকার, তা হল পোশাকটা আপনাকে কেমন মানাচ্ছে৷ প্রাণভরে কেনাকাটা করার আগে নিজের শরীরের গড়ন অর্থাৎ বডি টাইপটা মন দিয়ে দেখুন৷ যদি লম্বা আর নমনীয় গড়ন হয়, তা হলে জাম্পস্যুট পড়তে পারেন৷ ইওরোপে এই জাম্পস্যুটের জন্য এখন লোকে পাগল৷ হাই ওয়েস্ট প্যান্টের সঙ্গে চওড়া দেখে বেল্ট পরুন৷ কথা দিচ্ছি, রাস্তায় বেরোলে সবাই আপনাকেই দেখবে! আপনার গড়নটা কি একটু ছোটখাটো? তা হলে নবমীর রাত্রে এক কাঁধওয়ালা পোশাক পরুন৷ পায়ে গলিয়ে নিন গ্ল্যাডিয়েটর স্যান্ডল৷ আপনি যদি মাঝারি গড়নের লোক হন, তা হলে পরতে পারেন সিল্যুয়েট শিফট পোশাক৷ আঁটোসাঁটো পোশাক না পরে পরুন চুড়িদার৷ বাহারি হিলের জুতো এর সঙ্গে ভাল মানাবে৷
পশ্চিমী পোশাক যদি আপনি পছন্দ করেন, তা হলে তার সঙ্গে একটু পুরনো দিনের গয়না পরুন৷ মায়ের গয়নার বাক্সটা এক বার খুলে দেখুন না! পেয়ে যেতে পারেন একটু পুরনো দিনের দারুণ কোনও পেন্ডেন্ট৷ পশ্চিমী পোশাকের সঙ্গে এর যুগলবন্দী হবে দেখার মতো৷ হাজার লোকের ভিড়ে আপনাকে আলাদা করে চেনাবে৷ তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন৷ পরিমিত গয়না পরুন৷ যতটুকু দরকার, তার বেশি কিছুতেই পরবেন না৷ তা হলে কিন্তু সব মাটি হয়ে যাবে৷
খুব বেশি সুতোর কাজওয়ালা পোশাক এড়িয়ে যান৷ আবার বলছি, সব কিছুই যেন পরিমিত হয়৷ নেকলাইনের কাছে কাচের কাজওয়ালা দিল্লি ঘরানার পোশাক পরতে পারেন৷ এই ধরণের পোশাকে হাতের কাছেও অনেক সময় কিছু কাজ করা থাকে৷
অষ্টমীর দিন যারা সাবেকি অথচ নতুনত্বে মোড়া পোশাক পরতে চান, তাদের জন্য এ বারে বলি৷ ব্রিটিশ রঙের আসল টাঙ্গাইল শাড়ি পরুন৷ এর সঙ্গে পরুন ভাল কাটের মানানসই ব্লাউজ৷ যদি একটু ‘ফাঙ্কি’ সাজে নিজেকে সাজাতে চান, তা হলে ব্লক প্রিন্টেড কলার ও কাফ দেওয়া শার্টের সঙ্গে শাড়ি পরতে পারেন৷ লিখে দিচ্ছি, পরিবার আর বন্ধু-বান্ধবদের কাছে স্টাইল গুরু হয়ে যাবেন! ‘নিউ ইয়র্ক’-এর ক্যাটরিনা কাইফের কথাই ধরুন না৷ ষষ্ঠী-সপ্তমীতে ক্যাটরিনার মতো কেয়ারফুলি কেয়ারলেস সাজেও বেরিয়ে পড়তে পারেন৷ ডেনিম বা লাইনেনের নি-হাই স্ট্রিট শর্টের সঙ্গে পরুন নক্শা করা টি-শার্ট৷ সঙ্গে একটা রংচঙে ব্যাগ নিতে ভুলবেন না যেন৷ রোদ থেকে বাঁচতে পরুন বড় ফ্রেমের মানানসই রোদচশমা৷ যদি নিতান্তই ক্যাজুয়াল সাজে সাজতে চান, তাতেও কোনও সমস্যা নেই৷ লোকের নজর কাড়তে কপালে কালো রঙের একটা ছোট্ট টিপ পরুন৷ পুজোর ঝলমলে মেজাজের সঙ্গে মানানসই রঙের কাঠের চুড়ি পরতে পারেন৷ আর আপনার সাজে ভারতীয়ত্বের ছোঁয়া দিতে চাইলে পায়ে গলিয়ে নিন নুপুর৷
এ তো গেল মেয়েদের কথা৷ ফ্যাশনের দৌড়ে এখন পুরুষরাও কোনও অংশে পিছিয়ে নেই৷ পুজোর ফ্যাশনে পুরুষদের প্রিয় রঙের মধ্যে এ বার সবার প্রথমে রয়েছে পার্পল, প্রুশিয়ান আর ইন্ডিগো নীল৷ তবে সবুজ, লাল বা হলুদের মতো উজ্জ্বল রঙও কিন্তু দৌড়ে পিছিয়ে নেই৷ অষ্টমীর সন্ধেতে সুতোর ভাল কাজ করা খাদির শেরওয়ানি পরতে পারেন৷ পরতে পারেন বন্ধ-গলার শেরওয়ানি কুর্তাও৷ আর নিজেকে যদি একটু ‘বাঙালিবাবু, বাঙালিবাবু’ দেখাতে চান, তা হলে পরুন পার্পল বা লালের মতো গাঢ় রঙের ধুতি৷ সঙ্গে মানানসই খাদি কুর্তা৷
জিম করা শক্ত শরীর দেখাতে ইচ্ছে করছে? তা হলে ভি আকৃতির খোলা গলার কুর্তা-জামা পরতে পারেন৷ নিজেকে অভিজাত দেখাতে চাইলে পরুন লাইনেনের প্যান্ট৷ তবে এর সঙ্গে আঁটোসাঁটো জিন্সও পরতে পারেন৷ পুরো রকস্টারের মতো দেখাবে! মেদহীন টোনড শরীর দেখানোর জন্য আরও রাস্তা আছে বৈকি৷ আপনি যদি পোশাক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালবাসেন, যদি আত্মবিশ্বাসী হন, হাজার লোকের ভিড়ে যদি একটু ‘হটকে’ রূপ দেখাতে কোনও অসুবিধা না থাকে, তা হলে হারেমের প্যান্ট বা জুয়েভ পরতে পারেন৷ সঙ্গে পরুন ভাল টি-শার্ট আর ফেব্রিকের কাজ করা মানানসই ওয়েস্টকোট৷ এই পোশাকের সঙ্গে স্যান্ডাল দারুণ মানাবে৷ মানছি, একটু ঝুঁকি নেওয়া হয়ে যাবে৷ তবে আপনার অঞ্চলে আপনি কিন্তু ট্রেন্ডসেটার হয়ে যাবেন!
যুগের সঙ্গে তাল মেলানো পোশাকের কথা যদি বলেন, তা হলে ওয়েস্টকোটের কোনও বিকল্প নেই৷ ভাল স্ট্রাইপওয়ালা শার্টের সঙ্গে ওয়েস্টকোট অবশ্যই পরুন৷ তবে এক রঙের শার্ট বা টি-শার্টের সাথেও ওয়েস্টকোট ভাল মানায়৷ লাইনেন, সুতি থেকে শুরু করে চামড়া--ওয়েস্টকোটের তো এখন নানা ধরন, নানা কাট৷ ওয়েস্টকোটকে সঙ্গী করে পোশাক নিয়ে বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ আপনার আছে৷
শেষে বলি, পুজোর বাজার করার আনন্দ আর উত্তেজনাটাকে প্রাণ ভরে উপভোগ করুন৷ কী স্টাইলের পোশাক পরবেন আর কী পরবেন না, তা নিয়ে কিছু পরামর্শ মেনে চলুন৷ সবাই যা পরছে, পারলে তা না পরে তৈরি করুন আপনার নিজস্ব স্টাইল৷ বেছে বেছে এমন পোশাকই কিনুন, যার প্রত্যেকটার মধ্যে কিছু না কিছু নিজস্বতা আছে৷ একটার সঙ্গে অন্যটা মিশিয়ে পরুন৷ মনে রাখবেন, সত্যিকারের ‘ফ্যাশনেবল’ হিসেবে নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে চাইলে এই ‘মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ’ পদ্ধতির কিন্তু কোনও জুড়ি নেই৷
স্কেচ: অগ্নিমিত্রা পাল
|